বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করছেন প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে ব্যবসায়ীদের আন্ডারকাট দায়ী

ব্যবসায়ীদের আন্ডারকাট করে দাম কমানোকে তৈরি পোশাকখাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের একটা সমস্যা আছে। তারা নিজেরা নিজেরা আন্ডারকাট করে দাম এমন অবস্থায় নিচ্ছে, যাতে করে কেউ দাম পাচ্ছে না। প্রাইজের ওপর সেটার এফেক্ট পড়ছে।

৬ অক্টোবার বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গার্মেন্টসশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী, তাই জানি যে এ ধরনের একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় কাজ পাওয়ার জন্য তারা দাম কমিয়ে দিচ্ছেন। সেটা প্রভার পড়ছে মোট রপ্তানি আয়ের ওপর।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পোশাকখাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বায়ারদের মতে আমরা দামের কারণে প্রতিযোগিতায় যেতে পারছি না। সেটার জন্য সবদিকেই চেষ্টা করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে যে সাহায্য চেয়েছে সেগুলো ছাড় দিলে আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করি। তবে, তারচেয়েও বড় কথা আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য কিছু সুবিধা দরকার। যদি ৭/১০ দিন ক্লিয়ারেন্স পেতে সময় লেগে যায়, বায়ার যদি দেখে শিডিউল টাইমের চেয়ে ২০/২৫ দিন বেশি লাগে তাহলে দামে ছাড়ের প্রশ্ন আসে না।

তিনি বলেন, এসব কারণে অনেক ফ্যাক্টরিকে বিমানে মাল পাঠাতে হয়। একবারে মাল পাঠাতে সে বছরের সব প্রফিট চলে যাবে। সময়ের ব্যাপার, সরকার বিবেচনায় নেবেন। ফ্যাক্টরিগুলোর কাছে আবেদন আমরা নিজেরা আন্ডারকাট না করে আমাদের ব্র্যান্ড ভালো করা দরকার। বাজারে গ্লোবাল পরিচিতি বাড়ানো দরকার। কোয়ালিটির ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আশাবাদী যে সামনের দিনগুলোতে হয়তো উন্নত করবো। কিন্তু কবে নাগাদ করবে সেটা বলা মুশকিল।

টিপু মুনশি বলেন, আমরা নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এনবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থসচিব সমস্যাগুলোর বিষয়ে শুনেছেন। সে সমস্যাগুলো সমাধানে তারা কাজ করবেন। আমাদের রেডিমেট গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে যে নেগেটিভ গ্রোথ সেটা কীভাবে, সেটার গ্রোথ যাতে বাড়ে সেজন্য নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা কাজ করবেন। কিছু সমস্যা আমাদের হয় ক্লিয়ারেন্স ও জাতীয়করণের জন্য অনেক সময় লাগে, বন্দরে দীর্ঘসময় থাকে। এছাড়া অনেক কারণ রয়েছে। এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত কথা সবগুলোই বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

পোশাকখাতে নগদ সহায়তার বিষয় কী করতে যাচ্ছে সরকার এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেটুকু নগদ সহায়তা পাচ্ছি তাতে কিছু ট্যাক্সেশনের ব্যাপার এসেছে। সেটা নিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান অত্যন্ত আন্তরিক, তিনি বলেছেন সেটা ঠিক করে দেবেন। যেটা ট্যাক্স এসেছে সেটা কমাবে বলে মনে হয়েছে।

এ সময় অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.