স্টার্টআপের জন্য বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবারের বাজেট স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর দিল। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করহার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন দাখিল বাদে বাকি সব রিপোর্টিং থেকে অব্যাহতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।  

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২–২০২৩ অর্থ বছরের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট পেশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) যুগ। সরকার আইসিটি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে  স্টার্টআপ উদ্যোগকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ কোম্পানির লোকসান ৯ বছর পর্যন্ত সমন্বয়েরও প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসার প্রসারের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ব্যয়সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আজ বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিয়া প্রকল্প ও বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিগ)। সরকারের এরূপ নানা উদ্যোগের ফলে ক্রমশ দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে। বর্তমানে দেশে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি স্টার্টআপ রয়েছে। স্টার্টআপ খাতে এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের।’

স্টার্টআপ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, ২০২৫ সালে আইসিটি রপ্তানি ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ৩০ লাখে উন্নীত করা এবং সে জন্য এ খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের আকার জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর–সংগৃহীত কর থেকে পাওয়া যাবে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর–বহির্ভূত কর থেকে আসবে ১৮ হাজার কোটি টাকা আর কর ব্যতীত প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বাজেটে এ হার ছিল ৬ দশমিক ২। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে এ ঘাটতি মেটানো হবে বলে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.