সাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎচালিত গাড়ি আনছে জার্মানি

বিজ নিউজ ডেস্কসাম্প্রতিক সময়ে আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দাম গাড়িশিল্পে প্রভাব ফেলেছে। গাড়ির জ্বালানির জন্য রীতিমতো নাকানি-চুবানি খেতে হচ্ছে মানুষকে। এ কারণে বিশ্বের অনেক দেশের ক্রেতারা প্রচলিত পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর পরিবর্তে তারা বিকল্প জ্বালানির গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি)। কিন্তু চার্জিং স্টেশন নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে অনেকের সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকলেও এ ধরনের গাড়ি কিনছেন না। বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশনই হোক বা সিএনজি পাম্প, গাড়ির মডেল অনুযায়ী মোটর বা ইঞ্জিনকে চালাতে চার্জিং স্টেশন বা পাম্পের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হচ্ছে। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ি বাড়িতেও চার্জ করানো যায়, কিন্তু তা বেশ সময়সাপেক্ষ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পথ দেখাতে শুরু করেছে অত্যাধুনিক সৌরশক্তিচালিত ইভি। এ ধরনের গাড়ি বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছে জার্মানির স্টার্টআপ সোনো মোটর। দ্য সিয়ন সেই সৌরচালিত গাড়ির উৎপাদন শিগগির শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর: লাইভমিন্ট।

ভারতের গণমাধ্যম লাইভমিন্ট জানায়, সূর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে চলা এই গাড়ির ব্যাটারি সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো। আলাদাভাবে চার্জ দেয়ার সুবিধাও থাকছে। আগামী বছর উৎপাদন শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী সোনো মোটর। গাড়িটিতে থাকা ৪৫৬টি সোলার সেল এক সপ্তাহে ১১২ কিলোমিটার পথ চলার অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করবে। আবার ৫৪ কিলোওয়াট আওয়ার এলএফপি ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জে ৩০০ কিলোমিটার চলতে পারবে বলে দাবি করেছে সোনো।

সিয়নের পারফরম্যান্স সম্পর্কে আর কোনো তথ্য জানায়নি সোনো মোটর। তবে আগামী সাত বছরে গাড়িটির দুই লাখ ৫০ হাজার ইউনিট উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থা সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে সোলার প্যানেল যুক্ত গাড়িটি ১৯ হাজার বুকিং পেয়েছে। এজন্য বুকিং করতে গ্রাহককে মাত্র দুই হাজার ২২৫ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। গাড়িটির রেঞ্জ বাড়ানোর জন্য সোলার প্যানেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই চূড়ান্ত মডেলের দাম সূক্ষ্মভাবে বিবেচনার পরই নির্ধারণ করবে সোনো।

সোনো মোটর তাদের এই নতুন প্রযুক্তির গাড়ির দাম ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করতে পারে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, এর দাম চূড়ান্ত হলে বিশ্বে সবচেয়ে সস্তা সৌরচালিত গাড়ির তকমা পাবে সিয়ন। কিন্তু বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে অন্যান্য সংস্থাও সৌরশক্তিতে চলে এমন গাড়ি তৈরি করার চেষ্টা করছে। যেমন নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান লাইটইয়ার ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অ্যাপটেরা এরই মধ্যে এ কাজে হাত লাগিয়েছে।

এর মধ্যে লাইটইয়ার চলতি বছর থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গাড়ি উৎপাদন শুরু করবে বলে জানায়। তাদের লাইটইয়ার জিরো নামের মডেলটি মাত্র ১০ সেকেন্ডে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ছুটবে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার। ৬০ কিলোওয়াট ব্যাটারিযুক্ত এই গাড়ির চাকার ভেতরে থাকছে মোটর, যা থেকে সর্বোচ্চ ১৭৪ পিএস শক্তি পাওয়া যাবে। এছাড়া গাড়িটির মোট ৫৪ বর্গফুট জায়গায় অর্থাৎ গাড়ির বনেট ছাদ ও পেছনে সোলার প্যানেলের ব্যবহার করা হয়েছে। এখান থেকে সৌরশক্তির মাধ্যমে রিচার্জ হয়ে চলবে এই গাড়ি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এক চার্জে ৬২৫ কিলোমিটার যেতে পারবে গাড়িটি, যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার যাবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। অনন্য প্রযুক্তি ও নকশার কারণে বিশ্বে নজরকাড়া গাড়িটি বছরে ১১ হাজার কিলোমিটার চলতে পারবে।

সিয়ন, লাইটইয়ার জিরো ও অ্যাপটেরার পাশাপাশি সৌরচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির চেষ্টা করছে বিশ্বখ্যাত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সোনো মোটরও তাদের সিয়ান গাড়িটি ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয়ভাবে বিক্রির ভাবনাচিন্তা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.